নাঈম উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে অপহরণ নাটক সাজিয়ে হয়রানি, মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কাজী মাকছুদুল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকালে শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তার ছেলে শাহী কানন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে টার্গেট করে পুরো পরিবারকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রবাসী সেলিম অভিযোগ করেন, প্রায় ৫-৬ মাস আগে কাজী মাকছুদুল হকের ভাগিনা মেহেরাজের নেতৃত্বে একদল যুবক তার ছেলেকে অপহরণ করে হ্যাপী রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কাননকে শারীরিক নির্যাতন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে একটি সাদা কাগজে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের হুমকি ও চাঁদাবাজির চেষ্টা বন্ধ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সেলিম দাবি করেন, দাবিকৃত টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে মাকছুদুল হক তার নিজের মেয়েকে ব্যবহার করে কাননের সঙ্গে একটি কৃত্রিম সম্পর্ক তৈরি করেন এবং বিয়ের জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন।
গত ১ এপ্রিল সকালে ওই মেয়েটি পরিকল্পিতভাবে সেলিমের বাসায় গিয়ে কাননকে ডেকে নিয়ে যায়, যার স্পষ্ট প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলে তিনি জানান। এরপর মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে কাননকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করানো হয়।
তবে পরবর্তীতে আদালতে মেয়ের স্বীকারোক্তিতে অপহরণের সত্যতা পাওয়া যায়নি। আদালত কাননকে জামিন দিলেও মাকছুদ ও তার সহযোগীরা এখনো পরিবারটিকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
কাজী মাকছুদুলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনেন এই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে মাকছুদুলের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই পরিকল্পিত হয়রানির বিচার পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।