অনলাইন ডেস্ক
দ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার যাতায়াতে গত ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরার ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে সড়কে। সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়কে তৈরি হওয়া ছোট-বড় গর্তের ফলে বেপরোয়া গতিতে চলা মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা এবার বেড়েছে। এছাড়া ভাঙাচোরা সড়ক, অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশে তীব্র চালকসংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালকের মাধ্যমেই দীর্ঘ সময় বিরামহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সাথে কিছু বাস মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ছাড়াই সড়কে নামানোয় এবার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাল-বিল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বেশি দেখা গেছে।
হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুল মানুষ যাতায়াত করেন, তাই কেবল ১০-১২ দিনের তৎপরতা দিয়ে দুর্ঘটনা রোখা সম্ভব নয়। মানুষের জীবন রক্ষা ও ভোগান্তি কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। তিনি উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদের দাবি জানান। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলার জোর দাবি জানান তিনি। — Copied from www.khoborsangjog.com © 2026