অনলাইন ডেস্ক
আর মাত্র চার দিনের পর ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আনন্দ উপভোগে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার পালা শুরু হয়ে গেছে। আজ শনিবার থেকে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। যারা ১৩ মে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁরা আজ নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। যদিও এখনো সরকারি ছুটি শুরু হয়নি, তবুও আগেভাগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক মানুষ। তবে টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশে কড়াকড়ি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনে প্রবেশে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্টেশনের প্রবেশমুখে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বুথ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া মূল ফটকে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। ওই বেষ্টনীর ভেতর দিয়েই যাত্রীদের প্রবেশ করানো হচ্ছে।
স্টেশনে ঢোকার আগে প্রথম ধাপে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছেন টিটিরা। এরপর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে দ্বিতীয় দফায় আবারও টিকিট চেক করা হচ্ছে। যাঁদের টিকিট নেই, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অন্তত ৯টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ঢাকা ছেড়েছে। তবে নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সকাল সাড়ে ৭টায় ছেড়ে যায়। তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও কিছুটা দেরিতে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ওই সময় পর্যন্ত ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, শনিবার সারা দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোট ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৩টি আন্তনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ছুটি শুরু হবে ২৫ মে থেকে। ফলে আজ যাঁরা ঢাকা ছাড়ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই কর্মজীবী মানুষের পরিবার-পরিজন, ছোট ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ; যাঁদের ঈদের আগে তেমন জরুরি কাজ নেই। তবে অন্য দিনের তুলনায় সকাল থেকেই রাজধানী ছাড়তে মানুষের ভিড় কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতেও যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। আসনের অতিরিক্ত অনেক যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করছেন। ফলে ট্রেনের ভেতরে আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।
বেসরকারি চাকরিজীবী হুমায়ূন শিকদার পরিবারকে গ্রামের বাড়ি পাঠাতে কমলাপুর স্টেশনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অফিস করতে হবে। এরপর ছুটি পাব। তাই পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জ পাঠিয়ে দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত যাত্রা নির্বিঘ্নই মনে হচ্ছে, সামনে কেমন হয় সেটাই দেখার বিষয়।
বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী মাসুদ রানা বলেন, উত্তরাঞ্চলের ট্রেন সব সময়ই দেরি করে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা, কিন্তু এখনো আসেনি। কর্তৃপক্ষ বলছে আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে। অনেক যুদ্ধ করে অনলাইনে টিকিট কেটেছি। সময়মতো ট্রেন না পেলে এই গরমে ভোগান্তি বাড়বে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের ছাদেও কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। সকাল থেকে যেসব ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে, সেগুলো অপারেশনাল কারণে হয়েছে। এগুলোকে দেরি বলা যাবে না। তবে বেশির ভাগ ট্রেনই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে গেছে।
এদিকে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন, অর্থাৎ ২৪ মে বিকেল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়বে।