অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর হাতিরঝিল থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধসহ জনভোগান্তি লাঘবে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ৩৬ নম্বর প্রশাসনিক ওয়ার্ডের (হাতিরঝিল পূর্ব) নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাতিরঝিল থানা ইনচার্জ আসাদুজ্জামান এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আযমি উপস্থিত ছিলেন। সভায় জননিরাপত্তা ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে একাত্মতা প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির থানা সভাপতি রিয়াজউদ্দিন খান এবং বিএনপির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাহমুদুর রহমান।
সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে মাদক, চাঁদাবাজি, জলাবদ্ধতা, ময়লা-পয়ঃনিষ্কাশন ও রাস্তা সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, যানজট, ফুটপাত দখল এবং গ্যাস ও পানির সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কাউন্সিলর প্রার্থী জিল্লুর রহমান আযমি বিভিন্ন মহল্লা থেকে সংগৃহীত সমস্যার তথ্য-উপাত্ত সভায় উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নাগরিক সচেতনতা ও পুলিশের সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ঘরে ঘরে নৈতিক শিক্ষার চর্চা, খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যেকোনো সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
হাতিরঝিল থানা ইনচার্জ আসাদুজ্জামান স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক নোট গ্রহণ করেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিটি মহল্লায় সচেতনতামূলক উঠোন বৈঠক করার আশ্বাস দেন এবং এলাকাভিত্তিক পুলিশি টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মাদক ও চাঁদাবাজির চিহ্নিত স্পটগুলোতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালানো হবে। সন্তানদের গতিবিধি লক্ষ রাখার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা অপরাধে লিপ্ত তারা আমাদেরই সন্তান, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা জামায়াতের সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমিন, মীরবাগ এলাকার এইচ. এম. আবু হাসানাত, মধুবাগের জাহাঙ্গীর কবির, মীরেরটেকের আসগর হোসাইন, সোনালীবাগের আনোয়ার আজিজ ও নয়াটোলা পূর্ব এলাকার গিয়াস উদ্দিনসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা। আলোচনা শেষে একটি চা চক্রের মাধ্যমে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সভার সমাপ্তি ঘটে।