অনলাইন ডেস্ক
ঢালিউড অভিনেত্রী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা আগামী ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্যে টিজার প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার টিজার প্রকাশ করেছেন নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে টিজারটি প্রকাশ হতেই নেটিজেনসহ মৌসুমীর ভক্ত-অনুরাগীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে চলছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। মন্তব্যের ঘরে সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা সিনেমাটির মান নিয়েও কড়া সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন।
এর আগে কথা ছিল ওয়েব কনটেন্ট হিসেবে নির্মাণ করা হবে ‘কন্ট্রাক্ট’ ম্যারেজ। সেভাবে প্রিয়দর্শিনী এ সিনেমায় অভিনয়ে রাজি হন। কিন্তু সেটিকে টেনে বড় করে তৈরি করা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমা!
হ্যাঁ, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার মাধ্যমে এমন অদ্ভুত কাণ্ডই ঘটিয়েছেন নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর, যেখানে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী। এমন খবরে মৌসুমী ও অভিনেতা ওমর সানীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। যেখানে একটি শর্টফিল্মের মতো কনটেন্ট তৈরির কথা ছিল, সেখানে মৌসুমীকে ব্যবহার করে একটি নিম্নমানের সিনেমার কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি সিনেমাটি সেন্সরও পেয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলার দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা— কেন টাকা খরচ করে এ ধরনের নিম্নমানের কাজ নির্মাণ করা হয় এবং কারা দেখবে এসব। আরেক নেটিজেন বলেছেন— ২০২৬ সালে এসেও এমন অখাদ্য সিনেমা দেখতে হচ্ছে, যা সত্যিই অবাক করার মতো। অন্য আরেক নেটিজেন বলেছেন—যে টিজারের মধ্যেই তিনি পুরো সিনেমা দেখে ফেলেছেন।
সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি অভিনেত্রী মৌসুমীর একনিষ্ঠ ভক্তরাও প্রিয় অভিনেত্রীকে এমন কাজে দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মৌসুমীর মতো গুণী শিল্পীর এমন দিন এলো যে, তাকে এ ধরনের কনটেন্টে থাকতে হচ্ছে।
কাজটিকে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়া এবং সেন্সর সনদ পাওয়ার বিষয়টি অভিনেত্রীকে বিস্মিত করেছে। মৌসুমী বলেন, তার অজান্তেই কাজটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাকে কাটপিসের মতো ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত অনৈতিক।
এর আগে এক ভিডিওবার্তায় ওমর সানী বলেছিলেন, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ কোনো সিনেমা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা একটি নাটক। দর্শকদের প্রত্যাশার সঙ্গে এ কাজটি যায় না উল্লেখ করে তিনি সিনেমাটির মুক্তি বন্ধের আহ্বান জানান।
পুরো বিষয়টি নিয়ে চিত্রনায়িকা মৌসুমী নিজেও তার অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেন, নির্মাতার অনুরোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন এবং পরে তাকে জানানো হয় ফুটেজ বেশি হওয়ায় এটি টেলিছবি হিসেবে মুক্তি পাবে।
অন্যদিকে এতসব অভিযোগের পরও পিছু হটতে নারাজ নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শক এর থেকে অনেক ইতিবাচক বার্তা পাবে।