অনলাইন ডেস্ক
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নেওয়া উদ্যোগ ধারণার চেয়ে বেশি ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, তুরস্কে শুরু হওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন।
সপ্তাহান্তে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনালাপের পর সোমবার ট্রাম্প ওই আশাবাদী মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প কেন ইউক্রেন সংঘাতকে সমাধানের কাছাকাছি চলে গেছে বলে মনে করছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে সোমবার কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
মস্কোতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
আর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের কিছু সাফল্যের কারণে ট্রাম্প এখন এ যুদ্ধকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান প্রসঙ্গে ট্রাম্প গতকাল ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যার সমাধানে আমরা ধারণার চেয়েও অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গেছি বলে মনে হয়। আর প্রেসিডেন্ট পুতিন এ যুদ্ধের অবসান চান। আমি খুব দৃঢ়ভাবেই এটা বলতে পারি।’
ট্রাম্প বলেন, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে পুতিনের সঙ্গে তাঁর ‘আন্তরিক একটি ফোনালাপ’ হয়েছে। ক্রেমলিনে পুতিনের এক সহযোগী বলেছেন, ওই ফোনালাপ প্রায় ৮৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। ওই কথোপকথনে ট্রাম্প শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এখন সত্যিই এ যুদ্ধের অবসান চান। আমরা ন্যাটো সম্মেলনে যাচ্ছি, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আমার বিশ্বাস, আমরা সফল হব। আমার মনে হয়, আমরা এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারব। এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আজ শুরু হওয়া দুই দিনের ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হবে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সম্ভবত পুতিনের সঙ্গে আবার কথা বলবেন।