অনলাইন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত রিট চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সরকার তা বিলুপ্ত ঘোষণা করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে প্রশ্ন দেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’
এদিকে হঠাৎ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিল করায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, বার্তা স্পষ্ট, বিচারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ এ সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল।
ছাত্রশিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বিবৃতিতে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লয়ার্স অ্যালায়েন্সও এ ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে ব্রিফিং দেয়। এনসিপির আইনজীবী ফোরামের নেতা জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের, বিচারকদের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিতে বিএনপি সরকার খুবই বাজে একটি হস্তক্ষেপ করেছে। সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা বর্তমান আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নীরবতা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তারা।
সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে দায়ের করা রিটের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয়ের কার্যক্রম বাতিল করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (আজ) আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ইতঃপূর্বে হাইকোর্ট ইচ্ছাপোষণ করেছিল যেন এ সংক্রান্ত মামলার পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়টি যেভাবে আছে রাখা হয়।
শিশির মনির বলেন, কোর্টের এ নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় এটি বাতিল পুরোপুরি আদালত অবমাননা। মূলত এর মাধ্যমে মনে হয়, উচ্চ আদালতের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব লাগানোর দূরভিসন্ধি রয়েছে। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরকারের আগামী ৭ জুন পর্যন্ত আপিলের সময় থাকলেও এখনো রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি।
কিন্তু এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে কর্মরত ১৫ বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার সে অধ্যাদেশ বাতিল করে।
তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা ছিল। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ, যদিও এখন পর্যন্ত আপিল দায়ের করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট আশা প্রকাশ করেছিল, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না।