অনলাইন ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়কে হকারদের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আওতায় রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে ঢাকার হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৬ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান। আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন কয়েকজন আইনজীবী। শুনানিতে বলা হয়, বিদ্যমান আইনে সিটি করপোরেশনের ফুটপাত ও সড়ক হকারদের বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
রিটকারী আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “নীতিমালার মাধ্যমে হকারদের ফুটপাত ও রাস্তা বরাদ্দ দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে, যা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।”
তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারায় রাস্তার দুই পাশে অন্তত ১০ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু ফুটপাত ও সড়কের অংশ হকারদের বরাদ্দ দেওয়ায় সেই আইনেরও লঙ্ঘন হচ্ছে।
শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা আদালতকে জানান, সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটিতে কিছু এলাকায় হকারদের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর বৈধতা নিয়েই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হলে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে, তেমনি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের এই রুল সেই ভারসাম্য নিয়েই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।