অনলাইন ডেস্ক
গত ২১ নভেম্বর, নরসিংদীজুড়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার ফলে জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ায়, এখনো অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে আছেন এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে পলাশ ও মাধবদী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন স্থানে মাটির ফাটল ও ভবনের ক্ষত চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের ভেতরে মাটি ফেটে ৭-৮ ইঞ্চি ফাঁকা হয়ে গেছে। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের আঙিনার মাটির নিচে পড়েছে গভীর দেবে যাওয়ার চিহ্ন, এবং প্রধান ফটকের সামনের টিনশেড মেঝে ফেটে গেছে।
এছাড়া, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশিরভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশের ক্ষতিও হয়েছে। একইভাবে, ঘোড়াশাল এলাকায় ছয়টি বাড়ি ও ‘এস এ প্লাজা’ নামে একটি সাততলা শপিং মলে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
নরসিংদী শহর, মাধবদী, পলাশ ও ঘোড়াশালে একাধিক ভবন হেলে পড়েছে, এবং বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও দেয়ালের ইট পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে, পুরো জেলায় ভূমিকম্পের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
নিহতদের বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে।”
এদিকে, ভূমিকম্পের পর এখনও অনেক মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন, এবং সেখানকার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ দ্রুততার সাথে চলছে এবং সরকার ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।