স্টাফ রিপোর্টার
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,০৪২ জন নতুন রোগী। চলতি বছরের মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে, যা গত বছরের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪৯,৯০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৪৩৯ জন রোগী।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৩২২ জন। এছাড়া বরিশালে ১৯৫, চট্টগ্রামে ১০৪, খুলনায় ৭২, রাজশাহীতে ৮২, রংপুরে ২৩, ময়মনসিংহে ৪১ এবং সিলেটে ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ রোগী হাসপাতালে আসছেন জ্বর শুরুর ৬-৭ দিন পর, ফলে রোগীর শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গুতে বেশি মৃত্যু হচ্ছে শক সিনড্রোমের কারণে, যার ফলে শরীরে পানি শূন্যতা, প্রশ্রাব কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ, ফুসফুসে পানি জমা ইত্যাদি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ এবং শিশুদের মধ্যেই বর্তমানে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে:
বরগুনা, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, গাজীপুর এবং কুমিল্লায়।
সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৫,৮৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৭৬ জন
অক্টোবরে প্রথম ৫ দিনেই মারা গেছেন ১৪ জন, ভর্তি হয়েছেন ২,৫৬৫ জন
আগস্টে ভর্তি ছিলেন ১০,৪৯৬ জন, মৃত্যু ৩৯ জন
জুলাইয়ে ভর্তি ১০,৬৮৪ জন, মৃত্যু ৪১ জন
আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাড়ি ও আশেপাশের মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, “মশা নিধন সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। সমন্বয় না হলে কেবল চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু রোধ সম্ভব নয়।”
জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে পানি জমে থাকে এমন জায়গা (টায়ার, ফুলদানি, পাত্র) নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে
ঘুমানোর সময় মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে শিশুরা জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে।