অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সংকটের ‘কোনো সামরিক সমাধান নেই’।
নিউইয়ক থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ‘সব পক্ষকেই’ সম্মান করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। শান্তি চুক্তির জন্য ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। গুরুত্বসহকারে আলোচনা আবার শুরু করতে হবে।’
গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ‘অবশ্যই বজায় রাখতে হবে’—গত বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।
গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরান নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার শুরু হওয়া ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনাকে স্বাগত জানান। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এ আলোচনার বিরোধিতা করছে এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে।
তিনি বলেন, ‘কেউই আশা করে না যে আজকের এই আলোচনা সব সমস্যার সমাধান করবে, তবে এই আলোচনা যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কর্মকাণ্ডের ধরনে পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।’
গুতেরেস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল উভয়ই লেবাননের সরকারকে অস্থিতিশীল করতে একে অপরকে সহায়তা করেছে।’
তিনি কূটনীতি, ‘সংযম ও দায়িত্বশীলতা’ প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান, যা বিশ্বজুড়ে ‘লঙ্ঘিত’ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আইনহীনতা বিশৃঙ্খলা, ভোগান্তি ও ধ্বংস ডেকে আনে।’