অনলাইন ডেস্ক
ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার রায়েরবাজার জুলাই শহীদ গণকবরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যও প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।
এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহসী শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আত্মত্যাগের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়।
তাঁর আত্মদান শুধু একটি আন্দোলনের নয়, বরং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, জুলাই শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
তিনি বলেন, এই দিনে আমরা শুধু শহীদদের স্মরণ করি না, বরং তাঁদের আদর্শ ও আত্মত্যাগ থেকে নতুন করে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করি।
জেলা প্রশাসক বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বীর শহীদরা একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে পারে না। তাঁদের রক্তের ঋণ পরিশোধের একমাত্র উপায় হলো আইনের শাসন, সুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করা। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক চেতনার শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শহীদদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সব শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
একই সঙ্গে দেশের অব্যাহত শান্তি, উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।