অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনকে কেবল পর্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ পরিবর্তনের বৃহত্তর রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র, শিল্প ও সাহিত্যকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজের চিন্তা ও মূল্যবোধ গঠনের শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ আয়োজিত জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মন্ত্রী সেখানে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন মানে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে মেরামত করার একটি প্রক্রিয়া। তার ভাষায়, “আমরা বিপ্লব করতে চাই এ কথা বলিনি, আমরা পরিবর্তন করতে চাই। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, কার্যকর মতবিনিময় ও চিন্তার সংযোগ ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
তিনি চলচ্চিত্রকে সভ্যতার একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত মানুষের চিন্তাশক্তিই সমাজকে পরিচালিত করে। এই জায়গায় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, “শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রকে সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সফট প্রোডাক্ট হিসেবে দেখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শিল্পচর্চা সব সময় আর্থিক লাভের জন্য হয় না, অনেক সময় এটি মানবকল্যাণের তাগিদ থেকে জন্ম নেয়। তবে বাস্তবতার দিক থেকে শিল্পী ও চলচ্চিত্র কর্মীরা এখনো যথাযথ রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেক কিছু করার ছিল, যা আমরা করতে পারিনি। চলচ্চিত্র যে একটি শক্তিশালী মাধ্যম, সেই উপলব্ধি থেকে যারা বিত্তের স্বপ্ন বাদ দিয়ে এই অঙ্গনে এসেছেন, রাষ্ট্র হয়তো এখনো তাদের পাশে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সক্ষমতা তৈরি করতে পারেনি।”
তিনি জানান, সরকার শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র খাতে উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি শিল্পীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র আন্দোলনের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের জন্যও একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা উচিত। তবে তা যেন কোনো গোষ্ঠীগত আদর্শ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তিনি।
এদিনের আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলচ্চিত্রকে যদি শুধু বিনোদনের সীমা থেকে বের করে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে এটি তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ঘিরে রাজধানীতে শিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। সম্মেলনটি চলচ্চিত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।