অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার পর প্রথম বড় ধরনের সহিংস ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আফগান সরকারের উপ-প্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সোমবার কুনার প্রদেশের আসাদাবাদ শহর এবং আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার ও রকেট হামলা চালায়। এতে আবাসিক এলাকা এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং শিক্ষার্থীরাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। এদিকে, পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদ এটিকে “মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা” বলে দাবি করে জানিয়েছে, তাদের যেকোনো সামরিক অভিযান নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছিল, যার লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংঘাত কমানো। সেই প্রেক্ষাপটে এই হামলা ও পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ, বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়ছে। দুই দেশই একে অপরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করছে, যদিও উভয়পক্ষই তা অস্বীকার করে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আবারও দুই দেশকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এই সংঘর্ষ ইতোমধ্যেই বহু বেসামরিক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে।