সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর   * উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের পথে ঢাকা-ওয়াশিংটন   * কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী হত্যা রহস্য উদঘাটন, খুনিরা ছিল যাত্রীবেশে   * ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিলেন অর্থমন্ত্রী   * ঢাকায় ১১ ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস ছাড়া তেল পাওয়া যাবে না   * প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশপ্রাপ্তদের স্মারকলিপি পেশ   * তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি, পাম্পে ফিরেছে স্বস্তির পরিস্থিতি   * জামায়াত এমপির গাড়ি হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কৃত   * যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি গবেষক হত্যা, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য রোমহর্ষক   * নিপীড়িতদের আইনি সহায়তা দিতে সরকারের অঙ্গীকার: আইনমন্ত্রী  

   অর্থনীতি
তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি, পাম্পে ফিরেছে স্বস্তির পরিস্থিতি
  Date : 27-04-2026

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গভবনের দক্ষিণে পাশের টয়েনবি সার্কুলার রোডে এতদিন ছিল তীব্র যানজট। মূলত ওই রোডে পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের কারণে এই যানজট লেগেই থাকতো। কিন্তু এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। পাম্পটিতে গ্রাহকদের লাইন কমে আসার সঙ্গে যানজটও কমে গেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বেশকিছু পাম্প ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। পাম্পগুলোতে নেই আগের মতো দীর্ঘ লাইন, নেই বিশৃঙ্খলা। অথচ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হলে এসব পাম্পে তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি।

‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়ানোর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহে ফুয়েল পাসের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে পাম্পে চাপ কমছে। গ্রাহকদের মাঝে ফিরছে স্বস্তিও।

‎শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস পাম্পে রোববার সন্ধ্যার পর জ্বালানি সংগ্রহের লাইন দেখা গেছে। যদিও সেই লাইন আগের মতো ছিল না। লাইন ধরে ২০/৩০ মিনিটেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছিলেন গ্রাহকরা। অথচ, সেখানে কয়েকদিন আগেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে তেল সংগ্রহ করতে হতো।

‎মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংগ্রহে লাইনে অপেক্ষা করছিলেন শামীম আহমেদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ কেউ লাইনে দাঁড়ায়নি হয়ত। বৃষ্টি শেষে এখন সবাই এসেছে। এ কারণেই কিছুটা লাইন হয়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, আগে এখানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হতো। এখানকার অলিগলি ঘুরে লাইন এসে পাম্পে লাগতো। কিন্তু এখন অল্প সময়েই তেল নেওয়া যায়।

‎পাম্পটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার পর মোটরসাইকেল আরোহী আতাউজ্জামান বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে ২০/২৫ মিনিটের মধ্যে তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি।

‎তেল নিতে এখন যে সময় লাগছে, এটা হতেই পারে। তাছাড়া তেলও পাচ্ছি চাহিদা অনুযায়ী। এটাকে ভোগান্তি বলা যাবে না।

‎পাম্পটির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল ও সন্ধ্যায় এমনিতেই চাপ বেশি থাকে। তবে আগের চেয়ে লাইনের গতি বেশ বেড়েছে। ফলে অল্প সময়েই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন গ্রাহকরা। তাছাড়া সকাল ও দুপুরে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে, তখন আরো দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন গ্রাহকরা।

‎রাজারবাগের রহমান ট্রেডার্স নামের ফিলিং স্টেশনেও সোমবার সকালে গ্রাহকদের চাপ কম দেখা গেছে। পাম্পটিতে ফুয়েল পাসের বাইরে সাধারণ গ্রাহকদের ৫০০/১০০০ টাকার পর্যন্ত জ্বালানি তেল দিচ্ছে।

পাম্পের হিসাবরক্ষক মোজাম্মেল বলেন, তেল সরবরাহ বেড়েছে। তাই গ্রাহকদের চাপ দিনদিন কমছে। কারণ গ্রাহকরা সুবিধাজনক পাম্পে চাহিদামতো তেল নিতে পারছেন। গ্রাহকদের বারবার পাম্পে আসার প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই বাড়তি চাপ না থাকায় লাইন কমেছে।

‎এই পাম্পে অকটেন নিতে আসা আলি মিজান বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই পাম্পের বিশৃঙ্খলা কমে আসছে। দিন যত গড়াচ্ছে তেল ততই সহজলভ্য হয়ে উঠছে।

‎এদিকে রামপুরা পেট্রোল পাম্পসহ রাজধানীর অন্যান্য পাম্পগুলোতেও গ্রাহকদের লাইন কমে আসতে দেখা গেছে।

‎ইমরান হোসেন নামের এক গ্রাহক বলেন, আগে অনেক পাম্প বন্ধ থাকতো। যেগুলোতে তেল পাওয়া যেত সেগুলোতে ৪/৫ ঘণ্টা কখনও আরো বেশি অপেক্ষা করে সামান্য পরিমাণ সংগ্রহ করা যেত। তেল না পাওয়ায় কয়েকদিন মোটরসাইকেল চালানোই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। দাম বাড়ার পর এখন চাপ কমেছে। তাই আবার মোটরসাইকেল বের করেছি। এখন পাম্পে লাইন হলেও বড়জোর ৩০/৪০ মিনিটের মধ্যে তেল নেওয়া যায়। বেশি হলে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে, তবে তেল যথেষ্ট পাওয়ায় এটুকু অপেক্ষা সহনীয়।

‎পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশনে রোববার সকালের হিসেব অনুযায়ী, বিক্রি শেষে ডিজেল অবশিষ্ট ছিল ১৮০২ লিটার। নতুন করে ডিজেল আসে ৪৫০০ লিটার। সব মিলিয়ে ৬৩০২ লিটার মজুতের মধ্যে ১৭২৮ লিটার বিক্রি হয়। সবশেষ মজুত ৪৫৭৪ লিটার।

‎অন্যদিকে অকটেনের প্রারম্ভিক মজুত ছিল ১৭১৪ লিটার, এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় ৪৫০০ লিটার। সব মিলিয়ে ৬২১৪ লিটার মজুতের মধ্যে বিক্রি হয় ৪৩৯১ লিটার। আর অবশিষ্ট মজুদ ১৮২৩ লিটার।

‎পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক বাবলু জানান, আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কম ছিল। এখন সব পাম্পেই সরবরাহ বেড়েছে। আজ অকটেনের ঘাটতি আছে। তবে অকটেন পথে আছে, কিছু সময়ের মধ্য পৌঁছে যাবে।

‎তিনি আরো জানান, সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকদের এখন বেশি পরিমাণ তেল দিতে পারছি। তাছাড়া ফুয়েল পাসে চাহিদা অনুযায়ী তেল নিতে পারছেন, যা দিয়ে গ্রাহকরা কয়েকদিন চলতে পারছেন। এতে গ্রাহকদের চাপ কমায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত ১৮ এপ্রিল দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়। পরদিনই জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম কার্যকর হয়। সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পায়।

‎এ ছাড়া কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। পাশাপাশি অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়, এখানে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি পায়। আর পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়, যা লিটারে ১৯ টাকা বেড়েছে।



  
  সর্বশেষ
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের পথে ঢাকা-ওয়াশিংটন
কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী হত্যা রহস্য উদঘাটন, খুনিরা ছিল যাত্রীবেশে
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিলেন অর্থমন্ত্রী



সম্পাদক ও প্রকাশক: অধ্যাপক স্মৃতি ভূষণ ভট্টাচার্য্য (স্মৃতিময়)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিলয় ভট্টাচার্য্য: নির্বাহী সম্পাদক : এস এম আবুল হাসান,
সম্পাদক কর্তৃক ১১২/২ -এ পূর্ব বাসাবো, ঢাকা হতে প্রকাশিত এবং তুহিন প্রেস ২১৯/২,
ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স, (৪র্থ তলা), সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪১০৭০৪৫৬, মোবাইল: ০১৭৯৮-৪৬৬৪৭১, ০১৭১৬-৯১১৫৭২, ০১৯২৭-২০৩২০২।
E-Mail: dailydhaka2003@gmail.com , dainikdhaka5@gmail.com