অনলাইন ডেস্ক
লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এক নারী ইউপি সদস্য মাটিচাপায় আহত হয়ে চমেক ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড মিশনপাড়া (পাগলির জিরি) এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, রাতভর টানা বৃষ্টির পর হঠাৎ পাহাড়ের ঢালুর ধসে পাশের একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তেই ঘরটি মাটিচাপায় পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধসে পড়া মাটির স্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠেছে। প্রতিবেশিরা জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধ্বসের ঝুঁকি থাকলেও এত বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেননি। এর আগে গত কদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় ধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লামা পৌর শহর ৯৫% কয়েকফুট পানিতে ডুবে আছে। লামা খাদ্য গুদাম, হাসপাতাল ক্যাম্পাস, কৃষি অফিস, সমাজ সেবা, পশু সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, লামা থানা চত্বর, ট্রাফিক পুলিশ ব্যারাক, পাবলিক হেল্থ ক্যাম্পাস, নুনারবিল মডেল প্রাইমারি স্কুল, পৌর শহরে তিন শতাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা স্থান বিশেষ ২-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানি প্রতি মিনিটে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে লামা উপজেলা প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানান, শহর অভ্যান্তরে ও আশপাশে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেয়া পরিবারদের মাঝে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গত চার দিন ধরে আমি নিজেই সরে জমিন গিয়ে পৌর শহর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদেরকে কাছাকাছি আশ্রয় কেন্দ্রসহ নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছি।
ইউএনও মঈন উদ্দিন আরো বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করে সার্বক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এদিকে পানিবন্দি মানুষের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে রাজনৈতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে বিএনপি, জামায়াত, এনজিও সংস্থা একতা এনজেড খিচুড়ি রান্না করে দুর্যোগকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ কমিটির সদস্যরা সার্বিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন।