অনলাইন ডেস্ক
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত এই রায়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের ২০১৩ সালের রায় বাতিলের পেছনের আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের রোববার (১ জুন) তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের রায় দেন। ওই বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনুকূলে নিবন্ধন সনদ দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে ২০০৯ সালে সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন ওই নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিও দেওয়া হয়। ওই রায়ের পর জামায়াত আপিল ও লিভ টু আপিল করে। তবে একই বছরের সোমবার (৫ আগস্ট) হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের তৎকালীন চেম্বার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। এরপর মামলাটি আপিল বিভাগে চলতে থাকে। ২০২৩ সালের রোববার (১৯ নভেম্বর) শুনানির দিন জামায়াতের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আপিল ও লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। আদালতের ভাষায় সেটি ছিল “ডিসমিসড ফর ডিফল্ট”।
পরে দেরি মার্জনার আবেদন করে পুনরায় আপিল চালুর উদ্যোগ নেয় দলটি। ২০২৪ সালের মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) আপিল বিভাগ সেই আবেদন মঞ্জুর করে আপিল পুনরুজ্জীবিত করেন। এরপর ডিসেম্বর থেকে ফের শুনানি শুরু হয়। একই সময়ে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের বিষয়েও আবেদন করা হয়, যা মূল আপিলের সঙ্গে একসঙ্গে শুনানির জন্য যুক্ত করা হয়।
রায়ের পর নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।