অনলাইন ডেস্ক
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি, পুনাক আয়োজিত বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে পুনাকের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদও তুলে দেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে বরং এগিয়ে নেওয়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।” তিনি মনে করেন, নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে পরিবারে সচ্ছলতা যেমন বাড়বে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নারী উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন সহায়তা এবং বাজারজাতকরণে সহযোগিতা। তার ভাষায়, “নারী উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া গেলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের পথ আরও সুগম হবে।”
অনুষ্ঠানে পুনাকের সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে অনুপ্রাণিত করছে। “আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করি, তাহলে একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব,” বলেন তিনি।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, পুনাকের সহ সভাপতি সাবিনা আওলাদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংগঠনটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।