| |
| খরচের বোঝা ভারী, পোলট্রিশিল্প এখন বিপদের মুখে |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| অনলাইন ডেস্ক লাগাতার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও করের বোঝায় খুঁড়িয়ে চলছে পোলট্রিশিল্প। কয়েক দফায় পোলট্রির খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় প্রান্তিক খামারি পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে চলতি বাজেটে করপোরেট কর বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন করের বোঝায় ডিম-মুরগির দাম না পেয়ে অনেক খামারি পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে বেশি সময় লাগবে না বলে দাবি করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জানতে চাইলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রিপন কুমার মণ্ডল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পোলট্রিশিল্প বাঁচাতে চাইলে প্রথমে খাদ্যের দাম কমাতে হবে। কেননা খামারির মোট খরচের ৭৫-৮০ শতাংশই হয় খাদ্য কেনায়। কম দামে খামারিদের খাদ্য দিতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের উপকরণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আয়কর ও শুল্ক কমাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) তথ্যানুসারে পোলট্রিশিল্পের উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। পাশাপাশি বিগত চার বছরে প্রায় দুই লাখ খামারি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে খামারিদের পেশা ছাড়ার বিষয় সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অনেক কৃষক দেউলিয়া হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাজারের মন্দাভাবসহ নানা জটিলতায় প্রান্তিক খামারি ঝরে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই সংকট বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খামারিদের প্রণোদনাসহ ক্ষুদ্রঋণ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার জন্য কৃষি কার্ড প্রস্তুত করছি। এতে খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করছি।’ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এই সংকট থেকে উত্তরণে আসন্ন বাজেটে পোলট্রিশিল্পের ওপর করের বোঝা কমিয়ে আনলে রক্ষা পাবে শিল্পের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। পাশাপাশি বাজেটে পোলট্রি খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও আমদানি শুল্ক ছাড়া ও অগ্রিম আয়করে (এআইটি) সুযোগ বাড়ানোর। এ ছাড়া প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহায়ক বাজেট ব্যবস্থাপনা এখন জরুরি। একই সঙ্গে সতর্ক করে তাঁরা জানান, বাজেটে ভালো ব্যবস্থাপনা না থাকলে সাধারণ মানুষের সহজলভ্য প্রোটিনের সবচেয়ে বড় উৎস পোলট্রিশিল্প করপোরেটের কবজায় চলে যাবে। তখন আরও বেশি দামে কিনতে হবে ডিম ও মুরগি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরে পোলট্রি খাতে সব ধরনের কর ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। যার প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারকে সব ধরনের কর ও শুল্কে নমনীয় হতে হবে। টার্নওভার কর শূন্য দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে এনে মোট মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। করপোরেট কর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনলে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের কোথাও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোনো খাতের সঙ্গে এত উচ্চ কর নেই। বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কর অব্যাহতি দিয়ে উদ্যোক্তা ও খামারিদের সহায়তা দিয়ে থাকে। আমরাই ভিন্ন। গত পাঁচ বছর ধরে নানা চড়াইউতরাই পার করে পোলট্রিশিল্প টিকে আছে। চলতি বছরে অযৌক্তিকভাবে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এআইটি (অগ্রিম কর) ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার কর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। তাতে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম, মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে অনেকেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
|
| |
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক: অধ্যাপক স্মৃতি ভূষণ ভট্টাচার্য্য (স্মৃতিময়)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিলয় ভট্টাচার্য্য: নির্বাহী সম্পাদক : এস এম আবুল হাসান,
সম্পাদক কর্তৃক ১১২/২ -এ পূর্ব বাসাবো, ঢাকা হতে প্রকাশিত এবং তুহিন প্রেস
২১৯/২,
ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স, (৪র্থ তলা), সার্কুলার রোড,
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪১০৭০৪৫৬, মোবাইল: ০১৭৯৮-৪৬৬৪৭১,
০১৭১৬-৯১১৫৭২, ০১৯২৭-২০৩২০২।
E-Mail: dailydhaka2003@gmail.com , dainikdhaka5@gmail.com
|
|
| |
|