শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত : অর্থমন্ত্রী   * নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী   * চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু   * সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সবার অবদানের স্বীকৃতি জরুরি : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী   * নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী   * বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী   * রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন   * ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর   * নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন   * তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ  

   ফিচার
ইরানের গোলাপি হ্রদের রাজ্য: প্রকৃতির অপার বিস্ময়
  Date : 26-11-2025

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার যে কত বিচিত্র ও অফুরান, তার একটি জীবন্ত প্রমাণ দেশটির গোলাপি হ্রদ ও উপহ্রদগুলো। লবণ, সূর্যালোক আর এক ধরনের ক্ষুদ্র শৈবালের মেলবন্ধনে সৃষ্ট এই রঙিন জলাধারগুলো প্রতি বছর দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটককে মুগ্ধ করে। ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতির এই অদ্ভুতুড়ে ও মনোমুগ্ধকর সৃষ্টিগুলোর সৌন্দর্যের খোঁজেই আজকের এই আয়োজন।

গোলাপি রঙের রহস্য
রঙিন নদী ও হ্রদ প্রকৃতির এক দুর্লভ ও অবাক করা বিস্ময়। ‘গোলাপি হ্রদ’ কথাটি শুনে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কীভাবে সম্ভব এমনটি? এর পেছনের রহস্যের নাম ‘ডুনালিয়েলা স্যালিনা’। এটি এক ধরনের জলজ শৈবাল, যা অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও প্রচুর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বেড়ে ওঠে। এই শৈবালটি নিঃসৃত এক ধরনের পদার্থ পানি ও লবণের স্ফটিককে গোলাপি বা লাল বর্ণে রাঙিয়ে তোলে। উল্লেখ্য, এই শৈবাল পরিবেশ বা বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর নয়।

অনেকে এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে ‘রেড টাইড’ নামক সামুদ্রিক দূষণের ঘটনার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। রেড টাইড পানিকে বিষাক্ত করে তোলে এবং জলজ জীবনের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ইরানের গোলাপি হ্রদগুলোর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এই শৈবাল পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরীহ এবং কোনোভাবেই পানির গুণাগুণ বা ইকোসিস্টেমের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। তাই ইরানের গোলাপি হ্রদগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিস্ময়, তেমনি গবেষণা ও পর্যটনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মূল্যবান।

বিশ্বের গোলাপি হ্রদ ও ইরানের রঙিন বিস্ময়
বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমনসব বিস্ময় সৃষ্টি করে, যা চোখের সামনে দাঁড়িয়েও বিশ্বাস করা কঠিন। ঠিক তেমনই এক বিস্ময় গোলাপি রঙের হ্রদ। বলিভিয়ার লাগোনা কলোরাডা, অস্ট্রেলিয়ার লেক হিলিয়ার, স্পেনের লাস স্যালিনাস দে তোরেভিজা, সেনেগালের বিখ্যাত লেক রেটবা, রাশিয়ার সিভাশ লবণ উপহ্রদ কিংবা তানজানিয়ার লেক ন্যাট্রন—সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট রঙিন বিস্ময়।

এই ধারাবাহিকতায় ইরানও পিছিয়ে নেই। ইরানের উত্তরে, উত্তর-পূর্বে, দক্ষিণ-পশ্চিমে ও মধ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় ৮টি গোলাপি হ্রদ— যেগুলোর কিছু সারা বছর এবং কিছু মৌসুম ভেদে গোলাপি রং ধারণ করে।

মাহারলু হ্রদ, শিরাজ
শিরাজ শহর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাহারলু হ্রদ গ্রীষ্ম এলে যেন রং বদলের উৎসব শুরু করে। শীত ও বসন্তে সাধারণ রঙের এই লেক বর্ষার পর পানি শুকতে শুরু করলে তলদেশের খনিজ আর শৈবালের লালচে আভা উপরে উঠে আসে। সূর্যের আলোতে সেই গোলাপি রং আরও গভীর হয়, আর পুরো লেক তখন রূপ নেয় এক বিশাল প্রাকৃতিক ক্যানভাসে। শিরাজ ভ্রমণে এই হ্রদ না দেখলে যেন সৌন্দর্যের অর্ধেকই মিস হয়ে যায়।

লিপার লেক, চাবাহার
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে চাবাহারের বিস্ময়কর লিপার লেক যেন রঙের এক রহস্যময় ল্যাবরেটরি। মৌসুম পরিবর্তন ও মাছের প্রজননচক্রের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের রঙও বদলায়—কখনো কমলা, কখনো ম্লান গোলাপি, আবার কখনো উজ্জ্বল লাল। আগস্ট–সেপ্টেম্বরের শেষভাগে যখন রং সবচেয়ে তীব্র হয়, তখন লিপার লেক যেন পুরো অঞ্চলের প্রাণবন্ত হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠে। লেকের ধারে উটবিহারও পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

গোলফেশন নাফতলিজে, গোলেস্তান
সবুজ বন, তুর্কমেন সাহরার প্রান্তর আর মাঝখানে গোলাপি রঙের উজ্জ্বল আভা—গোলফেশন নাফতলিজে যেন প্রকৃতির এক চিত্রকর্ম। হ্রদের ভেতরে থাকা বিশেষ খনিজ উপাদান পানির স্তর কমলেই প্রকাশ পায় এবং পুরো লেক গোলাপি রঙে রাঙিয়ে তোলে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই খনিজের রয়েছে চিকিৎসাগত গুণ—যা হ্রদটিকে ‘হিলিং স্প্রিং’ নামেও পরিচিত করেছে। শান্ত, নির্জন এবং অপরূপ এই হ্রদ প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর নিখুঁত জায়গা।

লবণ হ্রদ, কোম
বহু পুরোনো এই লবণ হ্রদটি ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো গোলাপি রং ধারণ করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এর কারণ ছিল হ্রদের পরিবেশগত ভারসাম্যে পরিবর্তন এবং এক ধরনের এককোষী জীবের দ্রুত বৃদ্ধি। সাদা লবণাক্ত তীর আর গোলাপি পানির বৈপরীত্য এক অপার্থিব দৃশ্য তৈরি করে—যা দেখতে এখন সারা দেশ থেকেই মানুষ ভিড় জমায়।

সেরাভান মর্ডাব, গিলান
গিলানের ঘন জঙ্গলের মাঝে এই হ্রদটি পানির ওপর ভাসমান শৈবাল ও উদ্ভিদের কারণে পানিকে পান্না-সবুজ রঙে ঢেকে রাখে। যদিও এটি গোলাপি নয়, তবে ইরানের রঙিন জলাধার তালিকায় বিশেষভাবে পরিচিত।

হেসেল মর্ডাব, মাজানদারান
জঙ্গলের গভীরে লুকানো এই ছোট হ্রদটি কখনো লাল, কখনো সবুজ, কখনো নীলচে রং ধারণ করে। দীর্ঘ হাঁটার পর পাওয়া এই সৌন্দর্য ‘ম্যাজিক লেক’ নামে পরিচিত।

উরুমিয়া হ্রদ, পশ্চিম আজারবাইজান
একসময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খারাপানির হ্রদ উরুমিয়াতে বর্ষার পর ও গ্রীষ্মের শুরুতে আংশিকভাবে গোলাপি রং দেখা যায়। শৈবালবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট এই রং হ্রদটিতে নতুন প্রাণ যোগ করেছে। একসময় প্রায় শুকিয়ে যাওয়া এ হ্রদ এখন পুনরায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

প্রকৃতির রঙিন সমাহার
বিশ্বের গোলাপি হ্রদগুলো যেমন প্রকৃতির বিচিত্র রূপের দৃষ্টিনন্দন উদাহরণ, তেমনি ইরানের গোলাপি হ্রদগুলো দেশের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম রত্ন। কিছু হ্রদ সারাবছর গোলাপি থাকে, আবার কিছু নির্দিষ্ট মৌসুমে রং বদলায়। কিন্তু রঙের এই পরিবর্তন যেভাবেই হোক না কেন, একবার এই হ্রদগুলো দেখলে দর্শনার্থীর মনে আজীবন তৈরি হয় এক রঙিন স্মৃতি। প্রকৃতির এই উপহারগুলো টিকিয়ে রাখতে সবার সচেতনতা ও পরিবেশবান্ধব আচরণই হতে পারে সবচেয়ে বড় অবদান। 



  
  সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত : অর্থমন্ত্রী
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু
সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সবার অবদানের স্বীকৃতি জরুরি : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী



সম্পাদক ও প্রকাশক: অধ্যাপক স্মৃতি ভূষণ ভট্টাচার্য্য (স্মৃতিময়)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিলয় ভট্টাচার্য্য: নির্বাহী সম্পাদক : এস এম আবুল হাসান,
সম্পাদক কর্তৃক ১১২/২ -এ পূর্ব বাসাবো, ঢাকা হতে প্রকাশিত এবং তুহিন প্রেস ২১৯/২,
ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স, (৪র্থ তলা), সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪১০৭০৪৫৬, মোবাইল: ০১৭৯৮-৪৬৬৪৭১, ০১৭১৬-৯১১৫৭২, ০১৯২৭-২০৩২০২।
E-Mail: dailydhaka2003@gmail.com , dainikdhaka5@gmail.com