বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ‘আমি নির্দোষ, তবু আজ অপরাধী’: আদালতে আইভী   * মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল   * টুথপেস্ট নিয়ে অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ   * চামড়ার বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জেলাটিন-কোলাজেন উৎপাদন   * রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ অনির্ধারিত, প্রস্তুত ইসি   * সড়কে ঝরল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ, তথ্য রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের   * ডিএমপির অভিযান : ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৬, মামলা ৪০   * বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির   * আগের অপরাধে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচার সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা   * ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা সার্ভেয়ার ও কানুনগোদের দুই বছরের আগে বদলি নয়  

   জাতীয়
অপরাধের শাস্তি শেষ হলেও দেড় শতাধিক বিদেশীর বন্দিজীবনের ইতি ঘটছে না
  Date : 28-07-2026

অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছে মোট ৩৯০ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৬০ জনের শেষ হয়েছে কারাদণ্ডের মেয়াদ। কিন্তু প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় রিলিজ প্রিজনার (আরপি) হিসেবে এখনও কারাগারেই আছে তারা। কারণ নিজ দেশ তাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি নয়। আবার তাদের বাংলাদেশেও বৈধভাবে থাকার কোনো সুযোগ নেই। মূলত প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, এটিএম জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ আইনি জটিলতার আটকা পড়েছে। ফলে অপরাধের শাস্তি শেষ হলেও বন্দিজীবনের ইতি ঘটছে না তাদের। কারা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই আসে। তাদের কেউ পর্যটক, কেউ শিক্ষার্থী, আবার কেউ ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশে থেকে যায় অনেক বিদেশী নাগরিক। তাদের কেউ কেউ অপরাধচক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে। অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবসার নামে প্রতারণা, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন, ভুয়া লটারির ফাঁদ, এটিএম জালিয়াতি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওসব অভিযোগে অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

সূত্র জানায়, নানা অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশী নাগরিকের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়া যেকোনো সময় মুক্তি দিতে প্রস্তুত কারা অধিদপ্তর। কিন্তু এদেশে তারা বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবে না। আবার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ফলে তারা এক ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকা পড়েছে। কেবল সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নাগরিককে গ্রহণ করলেই দ্রুত তাদের মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কিন্তু তা না হওয়ায় রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়। কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দিদের আবাসন, খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সরকারকেই বহন করতে হয় ব্যয়। আর দীর্ঘদিন ধরে ওসব বন্দিকে কারাগারে রাখায় রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ছে। 

সূত্র আরো জানায়, বিদেশিদের জন্য বাংলাদেশে আলাদা কোনো ডিটেনশন সেন্টার বা বিশেষ আবাসন ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় বিদ্যমান আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় তাদের রাখতে হচ্ছে কারাগারেই। যদিও বিশ্বের অনেক দেশেই ওই ধরনের ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ডিটেনশন সেন্টার বা বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সেই ধরনের অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্তমানে অনেক বিদেশি বন্দির শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর বিদেশী বন্দিরা জানেন না কবে তারা দেশে ফিরতে পারবে। আদৌ কোনো দেশ তাদের গ্রহণ করবে কিনা। এমন অশ্চিয়তায় দিন কাটছে তাদের।

এ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দির সাজা শেষ হয়েছে। কিন্তু নিজ নিজ দেশ তাদেরকে নাগরিক হিসেবে গ্রহণ না করায় ওই বন্দিরা এখনো বাংলাদেশে আটক অবস্থায় রয়েছে। নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় বন্দিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বন্দিদের দেয়া ঠিকানা বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায় না। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অনাগ্রহ দেখায়। তাতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।



  
  সর্বশেষ
‘আমি নির্দোষ, তবু আজ অপরাধী’: আদালতে আইভী
মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল
টুথপেস্ট নিয়ে অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ
চামড়ার বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জেলাটিন-কোলাজেন উৎপাদন



সম্পাদক ও প্রকাশক: অধ্যাপক স্মৃতি ভূষণ ভট্টাচার্য্য (স্মৃতিময়)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিলয় ভট্টাচার্য্য: নির্বাহী সম্পাদক : এস এম আবুল হাসান,
সম্পাদক কর্তৃক ১১২/২ -এ পূর্ব বাসাবো, ঢাকা হতে প্রকাশিত এবং তুহিন প্রেস ২১৯/২,
ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স, (৪র্থ তলা), সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪১০৭০৪৫৬, মোবাইল: ০১৭৯৮-৪৬৬৪৭১, ০১৭১৬-৯১১৫৭২, ০১৯২৭-২০৩২০২।
E-Mail: dailydhaka2003@gmail.com , dainikdhaka5@gmail.com