অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বৈঠকে তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাজার সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করেন বার্নাম।
বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অ্যান্ডি বার্নাম রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।’
যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের নেতা বা সরকার গঠনে সক্ষম ব্যক্তিকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজা সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন বলে জানায় বার্তাসংস্থা এএফপি।
এদিকে, বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের সামনে তার বিদায়ী ভাষণ দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা চার্লসের কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন। এরপর রাজা বার্নামকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ করতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এরপরই বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র ৫৬ বছর বয়সী বার্নাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বার্নামকে যুক্তরাজ্যের স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অচল হয়ে পড়া জনসেবা খাতসহ একগুচ্ছ দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
তবে তার প্রথম প্রধান কাজ হবে মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা, যা নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে নিজের জয়কে বিগত ৪০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বার্নাম।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নাম তার প্রথম ভাষণে ‘আরও স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল রাজনীতির’ একটি পথরেখা তুলে ধরবেন বলে তার দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
বার্নাম বলেছেন বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করতে এবং সব অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন পথ তৈরি করবে।
গত মাসে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে ফিরে আসা বার্নামকে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতারা এমন একজন নেতা হিসেবে দেখছেন, যিনি ব্রেক্সিটপন্থি প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাইজেল ফারাজের জনতুষ্টবাদী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন।
জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলায় কিয়ার স্টারমার এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারবেন না বলে মনে করেন দলের অনেকে।
বার্নামের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে তার মন্ত্রিসভা গঠন, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী নির্বাচন করা। এর আগে সরকারের এই শীর্ষ দুই পদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে একাধিক সরকারের পতন ঘটেছে।
অর্থমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুরুতে জ্বালানি নিরাপত্তা মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম শোনা গেলেও তার বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক প্রচারণার কারণে এখন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পদের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বার্নামের দল কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সব চাকুরিজীবীর জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা রোববার বাতিল করা হয়েছে। সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি এই প্রকল্পটিকে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।
তবে সবার মূল নজর থাকবে কর ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, তেল-গ্যাস এবং ধুঁকতে থাকা ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বার্নামের সিদ্ধান্তের দিকে।
তিনি এই জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দৃঢ়ভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে চান।
রোববার বার্নামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঋণগ্রস্ত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘টেমস ওয়াটার’-কে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, বার্নাম সরকারের মনোযোগ ও সম্পদকে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশ ও অর্থনীতি যেভাবে চলে, তার অভ্যন্তরীণ কাঠামো আমূল পরিবর্তনের দিকেই কেন্দ্রীভূত করতে চান।