অনলাইন ডেস্ক
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই এবারও কলেজে ভর্তি করা হবে শিক্ষার্থীদের। আগামী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। ফল প্রকাশের পরপরই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এবারও শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে ফল প্রকাশকে ঘিরে যেমন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে, তেমনি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল।
একাদশ শ্রেণির ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরির লক্ষ্যে রোববার (২২ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জিপিএভিত্তিক অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্কুল ও কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী সহজেই একাধিক কলেজ পছন্দক্রম দিতে পারে। প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলে পরবর্তী ধাপেও পছন্দ পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
এছাড়া পুরো ভর্তি কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর সুযোগও অনেক কম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দীর্ঘদিন ধরে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ভর্তি নীতিমালা নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভা করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত এসেছে। সেগুলো সমন্বয় করে একটি খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেই ভর্তি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
গত বছরের নীতিমালা অনুযায়ী, কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার জিপিএভিত্তিক ভর্তি বহাল থাকলেও ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকার কলেজে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দেশে ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে জিপিএর ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু চার্চ ও মিশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমান অনলাইনভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও একই কাঠামো বহাল রাখার সম্ভাবনাই বেশি।