দিলিপ কুমার সরকার বলেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য একটি মানসম্মত জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তরুণ সমাজের সমর্থন ও আস্থা ধরে রাখতে হলে গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও দাবিগুলোর প্রতি সরকারকে আন্তরিক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাত, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করত, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করত, ব্যাংকিং খাতে কঠোর পুনর্গঠন আনত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করত, সংযমী অর্থনীতি ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্বনীতি অনুসরণ করত, নারী ক্ষমতায়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারত— তাহলে বলা যেত সরকার সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে।
সংস্কার প্রশ্নে জড়তা, নিয়োগে দলীয় আনুগত্য, ব্যাংকিং খাতে আপস, বাজেটে অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাছাই করা পদক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অনীহাকে ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে সুজন।
লিখিত বক্তব্যে দিলিপ কুমার সরকার বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে শুধু সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শাসনব্যবস্থার চরিত্রগত পরিবর্তন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের ক্ষমতায় আরোহনের সিঁড়ি ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক আহ্বান। প্রথম ১২০ দিনকে সেই পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু যদি সেই আহ্বান উপেক্ষিত হয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা দ্রুত হতাশায় পরিণত হবে, যা কোনো নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
সরকারের প্রথম চার মাসে সুজনের উল্লেখ করা ৯টি সাফল্য
১. ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ।
২. ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তরের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন।
৩. কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন।
৪. খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন।
৫. বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ (পিএসএসি) গঠন এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
৬. শতাধিক অধ্যাদেশকে সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হুবহু বা সংশোধিত আকারে আইনে রূপান্তর।
৭. মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা; যদিও তেল মজুদ করে একটি চক্রের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
৮. কয়েকটি সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সম্পন্ন করা।
৯. পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সাফল্যের নিদর্শন হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর বিজয়।