অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতোই সমান বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান। আইন অনুযায়ী, মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি পরিবহন, ভ্রমণ, চিকিৎসা, অফিস পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য ভাতা পান তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দলগুলোর আসন অনুপাতে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হয়েছে। এই আসনগুলোতে মনোনীত সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়। আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী এমপিদের সঙ্গে সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের কোনো পার্থক্য নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, একজন নারী সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর বাইরে নির্বাচনি এলাকা ভাতা হিসেবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা পান তারা।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও রয়েছে আলাদা ভাতা। লন্ড্রি বাবদ মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য ৬ হাজার টাকা বিবিধ ভাতা দেওয়া হয়। এসব ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা এই সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীতে থাকার জন্য ন্যাম ভবনে ফ্ল্যাট সুবিধাও পান তারা।
ভ্রমণ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় যোগ দিতে রেল, বিমান বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা রয়েছে। অধিবেশনে উপস্থিতির ভিত্তিতে দৈনিক ৮০০ টাকা ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্ব সংক্রান্ত কাজে বাইরে অবস্থান করলে ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধাও দেওয়া হয়, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা সংসদ সদস্য হিসেবে একই দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও সমান রাখা হয়েছে। এতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।