অনলাইন ডেস্ক
অসহনীয় গরমের মধ্যেই রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। মূল্যবৃদ্ধির পরও চাহিদা কমেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল মিলছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, সবাই পড়েছেন ভোগান্তিতে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপোগুলো থেকে অকটেন ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ বেশি সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবে শুধু খুলনা ডিপোতে বাড়তি সরবরাহ পাওয়া গেছে। অন্য ডিপোগুলোতে আগের বরাদ্দেই তেল দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে নতুন করে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক পাম্পে এই অ্যাপ ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একজন চালক বলেন, “ফুয়েল পাস থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দিচ্ছে, কিন্তু পাস ছাড়া অনেক পাম্পে তেলই পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়ানোর পরও যদি তেল না পাই, তাহলে চলবো কীভাবে?”
পাম্প মালিকদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা শৃঙ্খলা আসলেও সরবরাহ ঘাটতি থাকলে ভোগান্তি কমবে না। তারা বলছেন, সবাই নিয়ম মেনে তেল নিলেও যাদের ফুয়েল পাস নেই, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার ইউনিট তেল দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ইউনিট করা হয়েছে। তবে বাড়তি চাহিদার তুলনায় এটি এখনও যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “গাড়ির সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরবরাহও বাড়াতে হবে। না হলে ভোগান্তি কমবে না।”
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সংস্থাটির মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা সরবরাহ বাড়িয়েছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
তবে বাস্তব চিত্র এখনো ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় ও অর্থ দুটোই খরচ হচ্ছে চালকদের। অনেকেই বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।