অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও উর্মী বেগম (৩৯)।
সোমবার (৬ জুলাই) ডিবি সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল ঋণসংক্রান্ত কাজে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন। এরপর কয়েকদিন নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার কথা বলে তাকে ডাকা হয়। সেখানে আরেক নারী তাকে রিসিভ করে রিকশাযোগে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন এবং এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেয়া হয়।
ডিবি জানায়, এরপর চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। পাশাপাশি ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল গত ৩ জুলাই রাত থেকে ৪ জুলাই সকাল পর্যন্ত সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি এবং নগদ চার হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় একই কৌশলে আরও একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
পুলিশের ভাষ্য, সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগী ও চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে আছেন।