অনলাইন ডেস্ক
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন আজ সোমবার সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বললেন, “গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৪০ হাজার দরিদ্র, দুস্থ ও অসচ্ছল নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এনজিওর মাধ্যমে তাদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।”
‘মা ও শিশু সহায়তা তহবিল কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশুর পরিচর্যা এবং মনোসামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী রয়েছেন’-উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে এ ঋণ ব্যবহার করা যায়। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মক্ষম, স্বামী-পরিত্যক্ত ও বিধবা নারীরা এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। একজন নারীকে এককভাবে ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, “২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন নারীর মধ্যে ২০৩ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থা একই সময়ে ৭৪ হাজার ৭৮ জন নারীর মধ্যে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।”