অনলাইন ডেস্ক
নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) চলা আন্দোলন গড়ালো পঞ্চম দিনে। আজ সোমবার চলছে পূর্বঘোষিত ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মূল ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এতে করে সমস্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে।
রোববার (১৭ মে) রাতে ডুয়েটের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, আজ সোমবারসকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ফটক বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ব্যতীত কাউকে এসব ফটক দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য প্রতিটি ফটকে পাহারায় রয়েছেন তারা।
গতকাল রোববার দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রোববার সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং রোববারের সংঘর্ষের ঘটনায় ডুয়েটের যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে চিকিৎসা প্রদান করা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, যে ভিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে সেই ভিসিকে তারা ক্যাম্পাসে গ্রহণ করবেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট থেকে সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে একজনকে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে তারা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না।
রোববারের সংঘর্ষের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন। তবে ইসলামী ছাত্র শিবির এই হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আন্দোলন শুরু হয়। সেদিন শিক্ষার্থীরা ডুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরেই বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করে। পরদিন শুক্রবারেও তাদের আন্দোলন চলমান থাকে।
এরপর শনিবারে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচির’ ব্যানারে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় শিবির-সমর্থিত ও ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বহিরাগতরা এই আন্দোলনে যুক্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী এক হয়ে এর বিরোধিতা করে। গতকাল (রোববার) দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।