অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বইমেলাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। মেলায় ধারালো বস্তু, বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মব পরিস্থিতির কোনো আশঙ্কা না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে আয়োজিত এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে।
তিনি জানান, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ ঘিরে থাকবে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রবেশমুখে ধাতব অনুসন্ধান যন্ত্র ও আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে, পাশাপাশি থাকবে হাতে তল্লাশির ব্যবস্থা।
মেলা এলাকায় প্রায় ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কুকুর স্কোয়াড দিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হবে। হকার, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের দমনে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মো. সরওয়ার বলেন, “এখন পর্যন্ত মবের কোনো আশঙ্কা নেই, তবুও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।” গোয়েন্দা তথ্যেও কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা পুলিশ, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ইউনিট, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দল প্রস্তুত থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে অগ্নিনির্বাপক যান, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা। রাতে পর্যাপ্ত সার্চলাইটের ব্যবস্থাও থাকবে।
এবারের বইমেলার উদ্বোধন হবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ বাড়বে বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিনে ও রাতে কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। দোয়েল চত্বর ও টিএসসি এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন বই স্টলে রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।