অনলাইন ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং একটি আধুনিক ও দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে `ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে` প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন এবং অর্থনীতির গতি বৃদ্ধিতে এই মেগা প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে বিকল্প অর্থায়ন আলোচনা: প্রকল্পের মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান `ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি`-র শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে সিঙ্গাপুরে সালিশি বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর ফলে বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থায়নকারী দুটি চীনা ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বন্ধ ছিল। তবে এই সংকট সত্ত্বেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যায়।
প্রকল্পের আর্থিক সংকট কাটাতে চীনের শ্যানডং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
বৈঠকে সেতু সচিব জানান, ঢাকাবাসী ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের আংশিক সুফল পাচ্ছেন এবং বাকি অংশের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে বিনিয়োগকৃত অর্থ সহজেই তুলে আনা সম্ভব হবে।
সারাদেশে অভিন্ন ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ: সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী এক্সপ্রেসওয়েসহ সারাদেশে একটি অভিন্ন `ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন` (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জনাব আলতাফ হোসেন সেখ, প্রধান প্রকৌশলী জনাব এ এইচ এম এস আকতার এবং চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ: অন্যদিকে, রাজধানীর একটি হোটেলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সভায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা প্রতিনিধিত্ব করেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আশিক চৌধুরী।
এই সভায় সেতু সচিব ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। জাপানি প্রতিনিধিদল এই মেগা প্রকল্পের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রসার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরে। সভায় উভয় দেশ টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।