অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোরেলের ফার্মগেট পয়েন্টে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে গত রোববার একজন পথচারীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটার পর, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মেট্রোরেল পরিচালনা করার আগে ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকশা, নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের যেকোনো একটিতে ত্রুটি থাকতে পারে, যা চিহ্নিত করে সমাধান করা উচিত। কোনো ধরনের ত্রুটি রেখে মেট্রোরেল চালানো অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
গত বছর অক্টোবর মাসে একই স্থানে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, এবং আবারও ১৩ মাস পর একই পয়েন্টে এটি ঘটেছে, যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড. শামসুল হক, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, জানিয়েছেন যে, মেট্রোরেলের ত্রুটি চিহ্নিত করার পর সংশোধন করা উচিত। তিনি বলেছেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।
আরেক বিশেষজ্ঞ, ড. হাদিউজ্জামান, বলেন, "ফার্মগেটের একই পয়েন্টে ১৩ মাসের ব্যবধানে দুবার বিয়ারিং প্যাড খুলে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক এবং এটি সম্ভবত নকশার ত্রুটির কারণে ঘটছে।" তিনি বলেন, "এ ধরনের ত্রুটির জন্য বিয়ারিং প্যাডের চারপাশে নাটবোল্ট বা লোহার নেট বসানো যেতে পারে, যা পরিস্থিতি উন্নত করতে সাহায্য করবে, তবে এর জন্য মেট্রোরেল বন্ধ রাখতে হবে।"
অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এ বিষয়ে বলেন, বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনা বড় ত্রুটি নয় এবং এটি কারিগরি ত্রুটি হিসেবেও দেখা উচিত নয়। তিনি বলছেন, এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও ঘটে থাকে এবং এটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তিনি স্টোপার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যা নড়াচড়া আটকাতে সাহায্য করবে।
ডিএমটিসিএল (ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় রিট আবেদনও করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে আবেদন করেছেন, যাতে গাফিলতি বা অবহেলা খতিয়ে দেখা হয় এবং তদন্তের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আইরিন আক্তার পিয়া, নিহতের স্ত্রী, তেজগাঁও থানায় দায়ের করেছেন।
এই ঘটনা দেশের বৃহত্তম মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, এমন ত্রুটি সমাধান না করে মেট্রোরেল চালানো উচিত নয়।